টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারে পৃথক চারটি ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে আট রোহিঙ্গা নারী-শিশু এবং একজন স্থানীয়সহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (০৫ জুলাই) রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তিনটি স্থানে এবং কক্সবাজার শহরের একটি এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে রোববার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪)-এর বসতঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে। এই ঘটনায় কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪)-এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উখিয়া ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায় এবং ৩ জনকে মৃত ও ২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাত পৌনে ২টার দিকে পাহাড়ি ঢলে আসা মাটিচাপায় ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়।
ক্যাম্প প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরও একটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ ৪ জন নিহত এবং ১ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (০৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (০৩)।
অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় সোমবার ভোর ৪টার দিকে পাহাড় ধসে আলী আকবর নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় একই পরিবারের ৩ জন পাহাড় ধসে চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। আলী আকবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা আরও ২ দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

















