আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ার প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে একদিনেই তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। মূলত দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে—এমন প্রত্যাশা থেকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৮ দশমিক ৬ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। আগের দিনের ৯১ দশমিক ৬৮ ডলারের তুলনায় এর দাম ১০ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেল রপ্তানি কমে যাওয়ার উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে দুই সপ্তাহব্যাপী সংঘাতের পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিত করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে।
সোমবার ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভালো আলোচনা চলছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এদিকে ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিতের কথা জানিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে।
সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আরেকটি কারণ হলো কাজাখস্তানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম টার্মিনাল থেকে পুনরায় তেল পরিবহন শুরু হওয়া। তবে বাজারে এখনো কিছুটা সতর্কতা বজায় রয়েছে, কারণ ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের সৌদি আরামকো-সংশ্লিষ্ট জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনাগুলোতে হামলার দাবি করেছে।

















