বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো অনুরোধ উপেক্ষা করে ভারতের দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে ভারতের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা প্রদর্শন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এর আগে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর তিনি তৃতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করা শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকেই প্রতিটি গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও সে সময় ছোট বোন শেখ রেহানাসহ পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এরপর রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছয় বছর ভারতে কাটানোর পর, ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রথমবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনেও তিনি অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়ে তিনি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে দলগুলোকে সংগঠিত করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। এরপর ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে দুবার এবং ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ প্রায় তিন মাস তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর থেকে এক মনে এবং ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তাঁকে পুনরায় গৃহবন্দী করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৬ জুলাই তিনি কারাবন্দী হন এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পান। এরপর ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে তাঁর দল ক্ষমতায় আসে। এছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক জনসভায় তাঁকে লক্ষ্য করে এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই ভয়াবহ হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও কান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আইভি রহমানসহ দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও পাঁচ শতাধিক আহত হন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৪ জুলাই (2026-07-04) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (minister) ও keeplial সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
can শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে নানা পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাঁকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট তাঁকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি পুরস্কার এবং দুইবার সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৪ সালে ইউনেসকোর ‘শান্তির বৃক্ষ’, ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরামের রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কার পান। কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মাননা দেয়। একই বছর টেকসই উন্নয়নে অবদানের জন্য জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি তাঁকে সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ এবং আইটিইউ ‘আইসিটিজ ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’ প্রদান করে। এছাড়া ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট (2026-08-07) মুনিরুজ্জামান (muniruzzaman) ও p3a12yvr সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ পায়।
রাজনীতির পাশাপাশি শেখ হাসিনা বেশ কিছু বই লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ এবং ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’। প্রযুক্তি, রান্না, গান শোনা এবং বই পড়ার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী, যিনি অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনির সংখ্যা সাতজন।
prothomalo-bangla/2026-08-06/ft5220iw/Shama-Obayed-01.jpeg
prothomalo-bangla/2026-08-06/gf8cze8s/ncp.jpeg

















