২০৮০ সালের ঢাকা শহর আজকের পরিচিত রূপ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আকাশজুড়ে পণ্য ও মানুষ বহনকারী ড্রোনের আনাগোনা, রাস্তায় চাকাওয়ালা গাড়ির বদলে ম্যাগনেটিক রেলে ভেসে চলা যানবাহন আর বুড়িগঙ্গা নদী এখন কেবলই একটি পাইপলাইন। মানুষের জীবন এখন নিউরোলিংক চিপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত, আর প্রকৃতির অস্তিত্ব সেখানে প্রায় বিলীন। অক্সিজেন আসে বায়োরিঅ্যাক্টর থেকে এবং শাকসবজি হাইড্রোপনিক টাওয়ারে জন্মায়। এই কৃত্রিম শহরে প্রকৃতি বলতে কিছু নেই, তবুও পুরান ঢাকার ৩৮ নম্বর গলিতে একটি প্রাচীন বটগাছ টিকে আছে। ধারণা করা হয়, এর বয়স প্রায় ২০০ বছর বা তারও বেশি। গাছটি একটি ধসে পড়া মসজিদের দেয়ালের ফাটলে শিকড় গেড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সিটি ক্লিয়ারেন্স ডিভিশনের রোবোটিকস ইঞ্জিনিয়ার ফারিয়াদ হোসেনের দায়িত্ব ছিল শহরের এই অপ্রয়োজনীয় জৈব অবকাঠামো অপসারণ করা। পাঠকের লেখাবার্তাটা এসেছিল রাত তিনটায়। ‘সেক্টর ৭, পুরান ঢাকা। ভোর ছয়টার মধ্যে গাছটি কাটার কথা ছিল। ফারিয়াদ চারটি টাইটানিয়াম নির্মিত ক্লিয়ারেন্স বট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু অদ্ভুতভাবে বটগুলো গাছের সামনে গিয়েই সিস্টেম এরর দেখাতে শুরু করে। ফারিয়াদ তখন এক অতীন্দ্রিয় অনুভূতির মুখোমুখি হয়। সে যেন গাছের ভেতরে একটি বীজ থেকে শুরু করে শতবর্ষের বৃষ্টি, মানুষের স্পর্শ এবং একাকিত্বের বেদনা অনুভব করতে শুরু করে।
মাটি খুঁড়ে ফারিয়াদ আবিষ্কার করে যে, গাছটির শিকড় ১৯৯০-এর দশকের একটি পুরোনো ফাইবার অপটিক কেবলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। এই কেবলটি শহরের পুরোনো নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকায় গাছটি দুর্বল তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে স্মৃতির সাথে যোগাযোগ করছিল। ফারিয়াদ তার রিপোর্টে গাছটিকে ঐতিহাসিক অবকাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে অপসারণ স্থগিত রাখার সুপারিশ করে। তিন মাস পর, ফারিয়াদ একদল বায়োটেক গবেষকের সাথে ল্যাবে কাজ শুরু করে। গবেষণায় দেখা যায়, গাছের সংকেতগুলো অনেকটা ভাষার মতো। মাথায় একটি ছোট্ট চিপ বসানো ৩৪ বছর বয়সী ফারিয়াদ হোসেন ল্যাব থেকে বেরিয়ে পুরান ঢাকায় ফিরে সেই বটগাছ স্পর্শ করতেই তার মৃত নানার স্পষ্ট অবয়ব ভেসে ওঠে। এটি তার নানার ছবি। তার নানা মারা গেছেন ২০ বছর আগে। গাছটি ২০০ বছর ধরে কেবল টিকে থাকেনি, সে মানুষের স্পর্শ ও স্মৃতিগুলোকে আজও ধারণ করে রেখেছে।

















