রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং আমদানি ব্যয় নিম্নমুখী হওয়ায় ব্যাংক খাতে ডলারের দাম কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ৬১ পয়সা বা ০.৫০ শতাংশ কমেছে। বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৪১ পয়সা, সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সা এবং গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। তবে, খোলা বাজারে এই দর এখনও ১২৬-১২৭ টাকার মধ্যে রয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত ডলার মজুত রয়েছে। এই কারণে ব্যাংকগুলো বেশি দরে রেমিট্যান্স কিনছে না এবং ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে এলসি নিষ্পত্তি করার প্রস্তাব দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা ডলার দ্রুত বিক্রি করে দিতে আগ্রহী। গত তিন দিনে নিষ্পত্তির দরও কমানো হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা আরও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের দাম কমছে। গত কয়েক দিনে রেমিট্যান্সে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনেই দেশে দেড় বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া, জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি অন্যান্য কেনাকাটায় ডলারের চাহিদা কমেছে, যা দাম কমার অন্যতম কারণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিন ৩০ জুন টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট এই হার ছিল ১২১ টাকা ৯৪ পয়সা। তবে, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম কমলেও কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে এখনও চড়া দামে ডলার বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ডলার প্রতি ১২৭ টাকা ৩০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে এবং ১২৭ টাকায় কেনা হয়েছে। মতিঝিলের একজন ডলার ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরও বলেন যে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের সঙ্গে কার্ব মার্কেটের দরের তুলনা করা উচিত নয়। খোলা বাজারে ডলারের দর ব্যবসায়ীরাই নির্ধারণ করেন। উদাহরণস্বরূপ, সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক নগদ ডলার ১২৪ টাকায় বিক্রি করেছে এবং ১২৩ টাকায় কিনেছে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৪ টাকা ৯০ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে এবং ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় কিনেছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাজারে ডলারের দর চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো এবং চাহিদা কম থাকায় ডলারের দর কমাটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ থেকে ১২ই আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহের তথ্যে দেখা গেছে, এই ১২ দিনে প্রবাসীরা ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪২.২০ শতাংশ বেশি। এই হারে রেমিট্যান্স আসতে থাকলে মাস শেষে এর পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ হতে পারে। এর আগে, গত মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২৫ সালের আগস্টের প্রথম ১২ দিনে ১০৫ কোটি ৪০ লাখ (১.০৫ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১ মাস ১২ দিনে দেশে ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার (৪.৩৬ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩.৪ শতাংশ বেশি।

















