ফেনী জেলা কালচারাল অফিসার সুদীপ্তা চক্রবর্তীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাত্র এক দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী মো. আবু জাহের বাদল এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে একমাত্র আসামি মো. সাগর মিয়াকে (২৪) এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পরপরই আসামি সাগরকে কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাগর কিশোরগঞ্জের চৌহালী এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে এবং ফেনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফলেশ্বর এলাকায় ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করত। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে জেলা কালচারাল অফিসার সুদীপ্তা চক্রবর্তী তার শিশু কন্যাকে নিয়ে শহরের বড় মসজিদের পাশে কালীমন্দিরে পূজা দিতে যান। এ সময় সাগর তার গলার প্রায় ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। মন্দিরে উপস্থিত স্থানীয় এক যুবক হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ওই রাতেই সুদীপ্তা চক্রবর্তী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় সাগরের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। পরদিন মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট জমা দেন। দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই দণ্ডাদেশ দেন। ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে নিখুঁত চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে এবং মোট ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত এই রায় দিয়েছেন। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের চেইনটি ইতোমধ্যে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ওসি আরও উল্লেখ করেন, মাত্র এক দিনের মধ্যে চার্জশিট প্রদান ও রায় ঘোষণার এই ঘটনা ফেনীর বিচারিক ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৪৪আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৪৪
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আমরা আদালতে নিখুঁত চার্জশিট জমা দিয়েছি। বিজ্ঞ আদালত মোট ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

















