প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকটের পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে এবং দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও ধীরে ধীরে সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায়ী নেতাদের প্রত্যাশা, বুধবারের (১৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যে অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. ফজলুল হক সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে জানিয়েছেন যে, জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ ক্রমাগত বাড়ছে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্প-কারখানায় স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরে আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় কম চাপের কারণে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার গ্রাহকের কাছে স্বাভাবিক চাপে গ্যাস পৌঁছাতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মঙ্গলবার রাত অথবা বুধবার ভোরের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এর আগে সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কারখানা মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য নিয়মিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, যা আগের দিনের ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে পরিস্থিতি ভালো হলেও ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন রাতের পর এসব এলাকায় গ্যাসের চাপ আরও বাড়বে। মোশারফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেনও জানিয়েছেন, গাজীপুরের কারখানাগুলোতে এখন পর্যন্ত চাপ না বাড়লেও বুধবারের মধ্যে পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

















