বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আলোড়ন তোলা ‘ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি’ মামলায় বড় ধরনের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার দুই স্পোর্টস মার্কেটিং নির্বাহী—৮১ বছর বয়সী হুগো জিনকিস এবং তার ৫১ বছর বয়সী ছেলে মারিয়ানো জিনকিস। গত ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে তারা দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে এই চুক্তির শর্ত হিসেবে তাদের ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ, জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
আর্জেন্টিনাভিত্তিক প্রভাবশালী স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ‘ফুল প্লে’-এর মালিক এই বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে ফিফা, কনমেবল এবং কনকাকাফের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের কোটি কোটি ডলার ঘুষ প্রদান করতেন। বিশেষ করে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর মিডিয়া স্বত্ব কুক্ষিগত করতে তারা ফুটবল কর্তাদের পকেটে অনৈতিকভাবে অর্থ ঢালতেন বলে মার্কিন আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাসমূহকে প্রতারিত করার এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন এই দুই নির্বাহী। পছন্দের লাভজনক টুর্নামেন্টগুলোর স্বত্ব দখলে রাখতে তারা ধাপে ধাপে ফুটবল কর্তাদের লাখ লাখ ডলার ঘুষ দিতেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখের একটি বিলাসবহুল হোটেলে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)-এর ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ফিফা ও এর সহযোগী আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সেই আলোচিত অভিযানের অন্যতম মূল অভিযুক্ত ছিলেন জিনকিস পরিবার।

















