প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের মাধ্যমে জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি শতভাগ সঠিক ছিল বলে নিশ্চিত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বজুড়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলা তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ফিফার রেফারিপ্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা সরাসরি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
গোল বাতিলের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে কলিনা বলেন, ফুটবলে অহেতুক সময় নষ্ট রোধ এবং খেলাটিকে আরও সুন্দর ও গতিশীল করে তোলার জন্য বেশ কিছু কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের দ্বারা প্রতিপক্ষকে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যখন কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় বলের প্রতি কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে, এমনকি সামান্যতম হলেও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গতিবিধি বাধাগ্রস্ত করেন এবং তাঁকে রক্ষণভাগ সামলানো বা ডিফেন্ড করা থেকে বিরত রাখেন, তখন রেফারিদের এবং প্রয়োজনে ভিএআরের মাধ্যমে সেই ঘটনা সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ ও হস্তক্ষেপ করা উচিত।
বিশেষ করে গোলরক্ষকদের সুরক্ষার ওপর আলাদাভাবে জোর দিয়ে কলিনা জানান, যখন কোনো কৌশলের মূল উদ্দেশ্যই থাকে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে গোল রক্ষা করা থেকে বিরত রাখা, তখন রেফারিদের দ্বারা ফাউলের শাস্তি প্রদান করাটা স্বাভাবিক। কোচ ও খেলোয়াড়দের এই নিয়মগুলো সম্পর্কে আগেই অবহিত করা হয়েছিল, তাই রেফারিরা যদি এখন এই ধরনের ফাউলের শাস্তি দেন, তবে তা কারো জন্য বিস্ময় হিসেবে আসা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একই সাথে আধুনিক ফুটবলের গতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফিফার গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপের দারুণ সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন ফিফার রেফারিপ্রধান। কলিনা বলেন, সময়ের অপচয় রোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। গোল কিক, থ্রো-ইন এবং খেলোয়াড় বদলের ক্ষেত্রে এখন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো খেলোয়াড় আহত হলে তাঁদের এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কলিনার মতে, এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং সর্বসম্মতভাবে বেশ ইতিবাচক উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ সময় গত সোমবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল পরাশক্তি জার্মানি এবং লড়াকু প্যারাগুয়ে। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচটির অতিরিক্ত সময়ে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে জার্মানির ডিফেন্ডার জোনাথান টাহ দুর্দান্ত এক হেডে বল প্যারাগুয়ের জালে জড়ান। গ্যালারিতে তখন জার্মানির সমর্থকদের উল্লাস আর মাঠে জার্মান খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা আনন্দ দেখা গিয়েছিল। সবাই ভেবেছিলেন, এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে গেল জার্মানির জয়, কিন্তু নাটকের তখনো অনেক বাকি ছিল। রেফারি ভিএআরের সহায়তা নিলে রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলটি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে জার্মানির আরেক খেলোয়াড় ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক রলান্দো হিলকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন। যদিও সেই স্পর্শ বা ধাক্কা ছিল খুবই সামান্য, কিন্তু নিয়মের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন। এরপরই জার্মান শিবিরে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার এবং ফুটবল বিশ্বে সৃষ্টি হয় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড়। অনেকেই বলতে থাকেন এত সামান্য স্পর্শের জন্য গোল বাতিল করা অন্যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতেই ফিফা তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরল।

















