দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর তিনি গ্রেপ্তারের শিকার হন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইন্টারপোলের পাঠানো ই-মেইলের মাধ্যমে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুদক। তার সম্পদের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের পর এই মামলাটি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই তার সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথিপত্র জব্দের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ মে ঢাকার একটি আদালত শেখ আব্দুল হান্নানের নামে থাকা বিভিন্ন জমি, তিনটি ফ্ল্যাট, নির্মাণাধীন সাততলা ভবন এবং ছয়টি ব্যাংক হিসাব ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর ২৪ মে আদালত তার, তার স্ত্রী তাহমিদা বেগম এবং ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের নামে থাকা ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। এসব হিসাবের লেনদেন বন্ধ রাখা এবং সম্পদ হস্তান্তর ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই আদালত এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কিসমত মালিপাটন মৌজায় অবস্থিত ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের নির্দেশ দেন। ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা দলিলমূল্যের ওই জমিটি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ক্রোক করা হয়।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ আব্দুল হান্নান ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিসাধন করে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। দেশে ও বিদেশে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, শেখ আব্দুল হান্নান ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

















