জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামল কৃষ্ণ দাসের ৫ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুস সালাম এই রায় প্রদান করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন, যা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার প্রসিকিউটর শামীম হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনবিআরের কর অঞ্চল ময়মনসিংহে কর্মরত থাকাকালীন শ্যামল কৃষ্ণ দাস অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকে নিজের ও নির্ভরশীলদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ২ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর সঙ্গে ৩১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকার পারিবারিক ব্যয় যুক্ত করে মোট ৩ কোটি ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। দুদক যাচাই-বাছাই করে দেখেছে যে, তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ১ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার ২২৫ টাকা। অর্থাৎ, এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার আয়ের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
এই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৩ মে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান গত বছরের ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত মোট চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।

















