ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংলিশ ফুটবলাররা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে গানে মেতে উঠলেন। সবার মুখে ফুটে উঠেছে হাসি, তবে সবচেয়ে উজ্জ্বল হ্যারি কেইনের চেহারা। তাঁর এই হাসি কেবল সাধারণ আনন্দের নয়, বরং দীর্ঘদিন জমে থাকা মানসিক অস্থিরতা ঝেড়ে ফেলার স্বস্তির প্রতিফলন। ম্যাচের আসল চিত্রনাট্য তো তিনিই লিখেছেন, ৭৫ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরানো এবং ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করার মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ইংল্যান্ড ২-১ ডিআর কঙ্গো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আটলান্টা স্টেডিয়ামে মাত্র সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। ডান দিক থেকে আসা লম্বা পাস, ইওয়ান উইসার লাফ আর জেড স্পেনসের ভুল পজিশনিংয়ের সুযোগ নিয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গা শট নিলে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের নিকট পোস্ট ভেদ করে বল জালে জড়ায়। ইংল্যান্ড তখন ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে। ডেকলান রাইসকে তখন হতাশায় নিজের ডিফেন্ডারদের দিকে তাকাতে দেখা যায়।
ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করলেও ছন্দহীন তাড়াহুড়ায় ভুগছিল। জুড বেলিংহামের হেড কিংবা মার্কাস রাশফোর্ডের শট লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়, অন্যদিকে কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি একের পর এক সেভ করে দলের প্রতিরোধ ধরে রাখেন। বিরতির সময় টমাস টুখেলের জন্য পরিস্থিতি ছিল কঠিন, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড নতুন উদ্যমে মাঠে নামে। ৬১ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন মাঠে নামার পর দলের খেলায় নতুন গতি সঞ্চার হয়।
৭৫ মিনিটে আসে বহু প্রতীক্ষিত সমতা। ডেকলান রাইসের ডান দিকের ক্রস থেকে গর্ডনের নিঁখুত ডেলিভারিতে শানসেল এমবেম্বার কাঁধের পাশ ঘেঁষে ছয় গজ দূর থেকে হেড করে বল জালে জড়ান হ্যারি কেইন। এর ফলে ইংল্যান্ড ম্যাচে প্রাণ ফিরে পায়। এর ঠিক কিছুক্ষণ পরেই সেই স্মরণীয় মুহূর্তটি আসে। ৮৬ মিনিটে বেলিংহামের দৌড়, এমপাসির সেভ এবং গর্ডনের লড়াইয়ের পর বল কেইনের কাছে আসে। তিনি বল নিয়ন্ত্রণ করে সামান্য জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের বুলেট শটে জালের ডান দিকের ওপরের কোণ দিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। এই বিশ্বকাপে এটি কেইনের পঞ্চম গোল এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ১৩টি। দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে আটলান্টায় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন হ্যারি কেইন।

















