গাজীপুরের পাতারটেকে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছে প্রসিকিউশন। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তাকে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান।
শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম জানান, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভিন্ন মতাদর্শ নির্মূলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এক ভীতিকর সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বলপূর্বক গুম ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে বগুড়ার একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে নিয়ে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে সোয়াত সদস্যরা তাদের গুলি করে হত্যা করে।
নিহতদের মধ্যে মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমানের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় এখনও অজানা। প্রসিকিউশন আরও উল্লেখ করে, হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল লাশ নিতে আসা স্বজনদের বিরুদ্ধে তদন্তের হুমকি দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ইবরাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সিটিটিসির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর হাছান। বর্তমানে শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেরিতে পাওয়ার কথা জানিয়ে ডিসচার্জের শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের কোনো আপত্তি না থাকায় ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ আগস্ট আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

















