রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘণ্টি ঘর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করার ঘটনায় নিজ দল বিএনপি ও সরকারি মহলে তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের দিনেই এই ঘটনাটি ঘটে। ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মন্ত্রিসভার সদস্য থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও বিব্রতবোধ করছেন। তাদের প্রশ্ন, প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব না দিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী কেন নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন?
প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা এবং মিরপুর-১০ নম্বরের হকারমুক্ত ফুটপাতসহ ১৩টি স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। দল ও সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের ইতিবাচক অর্জন ইশরাকের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্যের মতে, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এর দায় পুরো মন্ত্রিসভাকে নিতে হচ্ছে। বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার একজন শীর্ষ নেতাও মনে করেন, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামা কোনোভাবেই একজন জনপ্রতিনিধির কাজ নয়, এতে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ঘটনার পর রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্যের মধ্যে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।
নিজের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক দাবি করেছেন, একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে, তাই হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি অল্প সময়ের জন্য বৈধ অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা জানান, অভিযানের বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি। ইশরাক নিজেই স্বীকার করেছেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেছিলেন।
ইশরাক বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটিরও সদস্য হওয়ায় তার এই আচরণ বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়লেও ইশরাক ঘোষণা দিয়েছেন, ঢাকা-৬ আসন মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তবে দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেওয়া এক বিষয় নয়।

















