জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, যেদিন জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে, সেদিনই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত সমাপ্তি ও সার্থকতা আসবে। তিনি বলেন, যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তা পূরণ হওয়া জরুরি। শনিবার রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কারের জন্য গঠিত ঐকমত্য কমিশনের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, মাসের পর মাস আলোচনার পর একটি চার্টার তৈরি করা হলেও, নিজেদের স্বার্থের বিষয় সামনে আসায় মতভেদ তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই মতভেদের বড় একটি অংশ বর্তমান সরকারি দলের দিক থেকেই এসেছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের সুরক্ষার স্বার্থেই তারা কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে কোনো দলীয় কর্তৃত্ব বা দলীয় লোক যেন না থাকে, বরং নির্দলীয় কমিশনের মাধ্যমে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়—সেটিই ছিল তাদের অবস্থান। তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধানে তো ২৬ সালের নির্বাচনও নেই।
বিএনপির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, তারা গণভোটের প্রস্তাব দিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করেছিল যে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় তারা মেনে নেবে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা দ্বিচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমান সরকার গঠনের পরও দুর্নীতি ও দলীয়করণের ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করে জামায়াত নেতা বলেন, মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে আন্দোলনে নেমেছিল, তা কেবল এক দলের পরিবর্তে আরেক দলকে বসানোর জন্য ছিল না।
সংসদে যথাযথ প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, এখন জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথের আন্দোলনে তারা সক্রিয় থাকবেন। ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে শফিকুর রহমান জানান, এটি কোনো সরকারের সফলতার চিত্র নয়, বরং যুগে যুগে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী শাসনামলে জনগণ কীভাবে নিগৃহীত হয়েছে, তা তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা না থাকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও ন্যায়ভিত্তিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে যারা কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী ছিল, তাদেরই মূলত এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
ছোট ছোট বিষয়ে ৩১টি দল একমত হলেও নিজেদের স্বার্থের বিষয় সামনে এলে মতভেদ তৈরি হয়েছে।

















