রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা সম্ভব হয়েছে এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতো না, তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই এখন সবার প্রধান দায়িত্ব।
অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডা থানার সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ মো. রায়হান হোসেনের পিতা মো. মোজাম্মেল হক অধিবেশনের উদ্বোধন করেন। এরপর কেন্দ্রীয় সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে দিনব্যাপী কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি এবং মাওলানা আব্দুল হালিম। এছাড়া সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং জাহিদুল ইসলামও এতে অংশ নেন।
শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ছাত্রসমাজকে সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। প্রতিটি সদস্যকে নিজের পড়ার টেবিলকেই আন্দোলনের ময়দান হিসেবে বিবেচনা করার পাশাপাশি পর্দা, তাকওয়া ও আমানতদারিতার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি সর্বস্তরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও আদর্শিক জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
অধিবেশনে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্যাম্পাস পরিস্থিতি, জেলা সংগঠনের সেটআপ অনুমোদন এবং কেন্দ্রের ষাণ্মাসিক রিপোর্ট পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৬ সেশনের কার্যকরী পরিষদের উপনির্বাচনে নির্বাচিত ১২ জনের নাম ঘোষণা করেন এবং সদস্যদের পরামর্শক্রমে আরও একজনকে মনোনয়ন প্রদান করেন। পরিশেষে তিনি নবনির্বাচিত ও নব-মনোনীত কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

















