ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকার ও আলিমুজ্জামান সাজু নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে তাঁদের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই দুই পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনেরা এখন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজুর বাড়িতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, চিকিৎসার জন্য পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু। সুস্থ-সবল সাজু চেকআপের জন্যই সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁরা জানতে পারেন অগ্নিকাণ্ডে তিনি মারা গেছেন। কলকাতায় অবস্থানরত তাঁদের এক ভাগ্নে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজুর মরদেহ শনাক্ত করেছেন। সাহেব সরদার জানান, ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। সাজুর প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম জানান, সাজুর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে রেবতী সরকারের বাড়িতেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। রেবতীর স্বজন তপন সরকার জানান, প্রায় ১০ দিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন রেবতী। শনিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকে রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ভবেশ জানিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। রেবতীর ছেলে অনিক সরকার বর্তমানে উত্তরাখন্ড থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। রেবতী ও ভবেশ দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক আকন্দ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে মোট সাতজন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরার এই দুই বাসিন্দাও রয়েছেন। উপহাইকমিশন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তসহ মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারত সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করছে এবং আশা করা হচ্ছে আজই মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ মোট নয়জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে শর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবুও রয়েছেন।

















