প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ১২। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের (এলএএএফ) অধীনে থাকা সামরিক আদালত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। গত ২৩ আগস্ট থেকে কয়েক দফায় এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনে সম্পৃক্ততা ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ৫০ জন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, এই বিচার প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ গোপন এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ডের পরিপন্থী। অনেক অভিযুক্তকে দীর্ঘ সময় গোপনে আটক রাখা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে এই স্বীকারোক্তিগুলোই আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। লিবিয়া ক্রাইমস ওয়াচ জানিয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামরিক আদালতের রায়ে ৩১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য তারা নথিভুক্ত করতে পেরেছে। তবে মামলার নথিপত্র প্রকাশ না করায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আসামিদের আইনি অধিকার নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাতিসংঘের লিবিয়া বিষয়ক সহায়তা মিশন (ইউএনএসএমআইএল) এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিশনটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পূর্ব লিবিয়ায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে লিবিয়ায় প্রায় ১৫ বছর ধরে চলে আসা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থবিরতা ভেঙেছে। সংস্থাটি কর্তৃপক্ষকে মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো সামরিক আদালতে বেসামরিক নাগরিকদের বিচার এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দণ্ডপ্রাপ্তরা সন্ত্রাসবাদ ও গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে বিভক্ত। বর্তমানে পূর্বাঞ্চলে এলএএএফ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বিভক্তির মধ্যে সামরিক আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ঘটনা দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

















