রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাফিদ খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৩ সেপ্টেম্বর। রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় রাফিদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে রাস্তার ডিভাইডারে মাথায় সরাসরি আঘাত পান। স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
পরদিন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, রাফিদ মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালমাসে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন এবং তার মস্তিষ্কের বাম অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। নিউরো সার্জনদের মতে, তার মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং কোষগুলো রিকভারি করা সম্ভব ছিল না।
রাফিদের বন্ধু ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শিবলী সাদিক জানিয়েছেন, খিলগাঁও চৌরাস্তার মোড় জনতা ফার্মেসির গলিতে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ তার নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। রাফিদের এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো রুয়েট পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার শিক্ষক, সহপাঠী ও স্বজনরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
সেখানে তাকে প্রথমে জরুরি বিভাগের ৮নং ওয়ার্ডে ও পরে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

















