মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং নতুন একটি বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। আগামী দুই দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। বিশেষ করে সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানি বাড়ায় নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েক দিনের বিরতির পর সোমবার থেকে দেশজুড়ে পুনরায় বৃষ্টি শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় সর্বোচ্চ ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও চাঁদপুরে ৭৬ এবং ময়মনসিংহে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে সর্বোচ্চ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, বুধবার থেকে সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের মতে, বৃষ্টির এই ধারা শনিবার পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও জনজীবনে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি আপাতত কাটছে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে। এ ছাড়া নওগাঁর বদলগাছীতে ৭৯, নীলফামারীর ডিমলায় ৭৯, নেত্রকোনায় ৬২, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৬১, কক্সবাজারে ৫৪, বান্দরবানে ৫০, ফেনীতে ৪৭ এবং ঢাকায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

















