জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১২ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের পরিবার।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ওই সময় পুলিশ মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়া বাড়ি চিনিয়ে দিয়ে সহায়তা করেন। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই মোস্তফা তাদের হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মহর আলী গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এই ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং বাকি ৮ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে কারাগারে থাকা ১৪ আসামি হলেন সাখাওয়াত, সোহেল, চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, আল আমিন, সাদ্দাম, শাহ আলম, উজ্জল, অন্তর, কাওসার, ফয়জুর, রিফাত, সুমন ও মোস্তফা।
নিহত মহরের ভাই জোবাইদ আলম ও মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, নিহতরা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাংগঠনিক সম্পাদক আসমাউল আসিফ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ১২ আগস্ট রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আদালতের রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

















