দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৭ সদস্যের ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এছাড়া কমিটিতে প্রতিমন্ত্রীকে সহ-সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্যকে (নিরাপত্তা) সদস্যসচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দেশের প্রধান প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা আগামী বৃহস্পতিবার বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কমিটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও কৌশলগত সুপারিশ প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করবে।
উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণে নিরাপত্তাজনিত অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংযোজন এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতি পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। কমিটির কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধির প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা এবং উপকমিটি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সভাপতি বছরে অন্তত দুইবার এই কমিটির সভা আহ্বান করবেন।
প্রকল্প ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন প্রসঙ্গে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানান, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই কমিটি মূল ভূমিকা পালন করবে। খাতসংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই সমন্বয় ও তদারকির ফলে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আস্থাভাজন ও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে।

















