হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও সেখানে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, সারোয়ার তুষারসহ উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা এরইমধ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন এবং বিকেল ৩টার মধ্যে হবিগঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় হামলা চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। কিন্তু একই স্থানে ও সময়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি ঘোষণা করায় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে।
হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এনসিপি নেতারা জানান, মঙ্গলবার টাউন হল থেকে সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে সবুজবাগ এলাকায় তাদের গাড়ি বহর ভাঙচুর করা হয়। এরপর কোর্ট মসজিদ এলাকায় পুনরায় হামলার শিকার হলে সারজিস আলম একটি হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে সোনালী ব্যাংকে অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশ পাহারায় তিনি ও তারেক ঢাকা ফিরে আসেন। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন জানিয়েছেন, ১৪৪ ধারা জারির প্রেক্ষিতে সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক উপায়ে হবিগঞ্জের কর্মসূচি পালন করা হবে।
প্রায় এক ঘণ্টার পর রাত ৮ টার দিকে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সরিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজ নিয়ে আসে।
এরপর রাত ১০টার দিকে পুলিশ পাহারায় সারজিস আলম ও নাহিদ উদ্দিন তারেক গাড়িবহর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

















