ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অভিযোগ, ভারত একজন ‘দণ্ডিত গণহত্যাকারীকে’ বক্তব্য রাখার মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চলমান প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বুধবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ‘বিষোদ্গার’ করেছেন। মন্ত্রণালয় ভারতের মাটিতে হাসিনার এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে, হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে দ্রুত প্রত্যর্পণের দাবি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অডিও লিংকের মাধ্যমে তিনি নিজের বিরুদ্ধে চলমান মামলা, বর্তমান সরকার এবং তার সমর্থকদের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমার জন্য যে পরিণতিই অপেক্ষা করুক না কেন, আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যাব।’ দেশে ফেরার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশ আর কোনো বাধা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরলে তাকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে, এমনকি তাকে হত্যাও করা হতে পারে। এসব ঝুঁকির কথা জেনেও তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে অনড়। হাসিনা আরও যোগ করেন, ‘তারা আমাকে কারাগারে রাখতে পারে। তারা আমাকে হত্যা করতে পারে। যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। কিন্তু তারপরও আমাকে যেতে হবে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশের অনেক ঊর্ধ্বে আমার জীবন অনেক আগেই চলে গেছে।’
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ১০আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ১৩

















