রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে বোমা-আতঙ্ক এবং সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে পুলিশ সব সময় সতর্ক থাকে। সিনিয়র অফিসাররা নিয়মিত তদারকি করেন এবং মাঠপর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের আরও সতর্ক থাকার জন্যই এই রিমাইন্ডার দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তায় বলা হয়েছে, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা এসব যানবাহনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তাই ডিউটির সময় যানবাহন থামালে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে। এছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সতর্কবার্তার বিষয়ে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশকে নিজেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে কিছু ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে এবং গুজব ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে পুলিশকে আবারও সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা। পুলিশের যানবাহন থেকে শুরু করে স্থাপনাগুলো যেন নিরাপদ থাকে, সে জন্য সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একটি বস্তা ঘিরে আতঙ্ক ছড়ালেও সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে ‘শক্তিশালী বোমা’ উদ্ধারের পর তা নিষ্ক্রিয় করা হয়। সর্বশেষ শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা পরীক্ষা করে সেগুলোতে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি বলে জানায় ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
মতিঝিলে আইইডি উদ্ধারের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিবি প্রধান জানান, ঘটনাটির তদন্ত করছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং ডিবি ছায়া তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত এককভাবে কেউ করে না; কোনো মতাদর্শ বা উদ্দেশ্য প্রচারের জন্য এমন কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে।

















