সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্থান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটগাঁও ইউনিয়নের বাজারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং সোমেশ সমাজপতির ছেলে সৌরভ সমাজপতিকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ‘নো ভোট’-এর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন। একই পদে উজ্জ্বল চৌধুরী, জুয়েল দাশ, তুহিন মিয়া ও মাসুকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগবঞ্চিতদের দাবি, মাসুকুল ইসলাম কোনো ভাইভা পরীক্ষা না দিয়েই নিয়োগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে প্রার্থী সুবেল আহমেদ শুভ জানান, ভাইভা পরীক্ষার সময় মাসুকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না এবং বোর্ড সদস্যরা তাকে ডেকেও পাননি, অথচ চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম এসেছে। এছাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিত্যানন্দ দাসের আপন ভাতিজার মেয়ে সিম্পন রানী দাসকে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া সুপারভাইজার পদে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা পাম্পি রানী দাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, কারণ তার দুই বছর আগেই দিরাই উপজেলায় বিয়ে হয়েছে। রাসেল রাহাত নামের আরেক অপেক্ষমাণ প্রার্থীর বিরুদ্ধেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদ এই অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারি এই কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যেই হয়তো এমনটা করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থী হাজিরুল ইসলামের অভিযোগ, যোগ্যদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আওয়াল জানান, তিনি যতটুকু জানেন নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে, তবে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক। ফ্যামিলি কার্ড স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্যসচিব ও সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তীকে একাধিকবার ফোন করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সবার প্রোফাইল যাচাই করা সম্ভব নয় এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। তবে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের বক্তব্য এই বিষয়ে পাওয়া যায়নি।

















