দেশের অন্যান্য শিল্প খাতের শ্রমিকদের তুলনায় চা শিল্পের কারিগরি শ্রমিকদের দৈনিক ও মাসিক মজুরি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন চা শ্রমিক নেতারা। বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং ভবিষ্যতে উন্নত জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি মানসম্মত মজুরি নির্ধারণের জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার গত ১৯ আগস্ট একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই কমিটি বিভিন্ন চা বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি নিরপেক্ষ ও বাস্তবমুখী প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। নৃপেন পাল আরও বলেন, সব ধরনের প্রতিকূলতা দূর করে সরকার চা শ্রমিকদের জন্য একটি মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ করবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন প্রসঙ্গে নৃপেন পাল জানান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এছাড়া বর্তমান সরকার গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় বাবদ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ সময় বক্তারা চা শ্রমিকদের সাময়িকভাবে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এই অপেক্ষার ফলে মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ ও কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজনের পথ আরও সুগম হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চা শ্রমিকদের আশু কল্যাণ, সরকারের আন্তরিকতা এবং দেশের চা শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর অধিকারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কন্দের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা। এছাড়া সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ট তাঁতী, সহসভাপতি জেসমিন আক্তার, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দীসহ বিভিন্ন ভ্যালির নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

















