ফুটপাত থেকে ৬৫০ টাকায় কেনা শখের একটি চাকু কেড়ে নিল এক রিকশাচালকের প্রাণ। গত বুধবার ভোররাতে রাজধানীর দারুসসালামের গাবতলী এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত তিন কিশোরকে গত শনিবার গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ১৬ বছর এবং অন্য দুজনের বয়স ১৫ বছরের কম। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে এই কিশোরদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে জড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি সূত্র জানায়, সাদ (ছদ্মনাম) নামের ওই কিশোর শখ করে চাকুটি কিনেছিল এবং বন্ধুদের কাছে তা প্রদর্শন করত। ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল তার ১৬তম জন্মদিন। জন্মদিনের পার্টিতে জীবনে প্রথমবার মদ পান করার পর রাত একটার দিকে সে বন্ধু ফরিদকে (ছদ্মনাম) ফোন করে গাবতলীতে ডেকে নেয়। সেখানে ঘোরাঘুরির সময় এক রিকশাচালকের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর রাত তিনটার দিকে তারা জাহিদ (ছদ্মনাম) নামের আরেক বন্ধুকে ডেকে আনে। চায়ের দোকানে আড্ডার সময় জাহিদের উসকানিতে তারা ওই রিকশাচালককে মারধরের পরিকল্পনা করে। বিভিন্ন জেলায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকাতেই ১২৭টি ‘কিশোর গ্যাং’ বা ১২৭ট উপদল শনাক্ত করা হয়েছে।
রিকশাচালক পাশের একটি হোটেলে আশ্রয় নিলে কিশোররা ক্ষুব্ধ হয়। হোটেল থেকে বের হওয়ার পর জাহিদ তাকে থাপ্পড় মারে এবং সাদ তার কাছে থাকা সেই চাকু দিয়ে রিকশাচালকের ঘাড়ের পেছনে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় রিকশায় উঠে পালানোর সময় কিছুদূর গিয়েই ওই চালক মারা যান। ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, উঠতি বয়সের উত্তেজনা ও বন্ধুদের উসকানি থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
নিহত রিকশাচালকের নাম ইমন সর্দার (২৬), যার বাড়ি পাবনা সদরের রাধানগর গ্রামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডিবি পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে। প্রথমে ফরিদকে যাত্রাবাড়ী থেকে এবং পরবর্তীতে তার তথ্যের ভিত্তিতে জাহিদকে ভোলা ও সাদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল এ ধরনের ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

















