নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলায় বুধবার দুপুরে পৃথক ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো কলমাকান্দার রংছাতী ইউনিয়নের কালাইকান্দি গ্রামের রাজিব মিয়ার ছেলে মোয়াজ (১), পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামের টিটু মণ্ডলের ছেলে তাসকিন তারেক (১৮ মাস) এবং পূর্বধলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামের সুমন মিয়া (৬)।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালাইকান্দি গ্রামে বাড়ির উঠানে খেলার সময় সবার অগোচরে হামাগুড়ি দিয়ে পুকুরে পড়ে যায় শিশু মোয়াজ। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে এক পর্যায়ে পুকুরে ভাসতে দেখেন। পরে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক ডা. হাসিবুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর, দুপুর দেড়টার দিকে একই উপজেলার শুনই গ্রামে বাড়ির পাশে জমে থাকা বর্ষার পানিতে ডুবে তাসকিন তারেক মারা যায়। রান্নার কাজে ব্যস্ত পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে পরে ডোবার পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে পূর্বধলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে ছয় বছর বয়সি সুমন মিয়ার মৃত্যু হয়। তার সঙ্গে খেলতে থাকা সাত বছর বয়সি চাচাতো ভাই মোস্তাকিম বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেনি। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরে সুমনকে ভাসতে দেখা যায়। তাকে দ্রুত পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

















