মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। সোমবার শেষ হওয়া রয়টার্স-ইপসোসের এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে যে, ভোটারদের একটি বড় অংশই এই নির্বাচনকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের প্রতি বিরোধিতার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। জরিপ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার পর জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় রিপাবলিকানদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
জরিপে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা কংগ্রেসে কোন দলকে দেখতে চান। এর উত্তরে ৪৬ শতাংশ ভোটার ডেমোক্রেটদের পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন ৩৮ শতাংশ। রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘জেনেরিক ব্যালট’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যবধান আগের সপ্তাহের ১১ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে নেমেছে। যদিও এই জরিপ কংগ্রেসের সামগ্রিক প্রবণতা নির্দেশ করে, তবে এটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণকারী অঙ্গরাজ্য বা নির্বাচনী এলাকার জটিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলো প্রতিফলিত করে না।
ট্রাম্প সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও এবারের ভোটে তার প্রভাব স্পষ্ট। জরিপে অংশ নেওয়া ৩২ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তারা প্রেসিডেন্টের কাজে সন্তুষ্ট, যা দুই সপ্তাহ আগের রেকর্ড সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশের কিছুটা উপরে। এছাড়া নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ তার পক্ষে মত দিয়েছেন। ৩৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের প্রভাব তাদের সিদ্ধান্তে নেই।
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়কে ৭৮ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই ইস্যুতে ডেমোক্রেটরা ৪৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানরা ৩২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এছাড়া ডেমোক্রেট ভোটারদের মধ্যে উৎসাহও বেশি লক্ষ্য করা গেছে; ৪৯ শতাংশ ডেমোক্রেট ভোটার জানিয়েছেন তারা ভোট দিতে ‘খুবই উৎসাহী’, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৩৩ শতাংশ। রয়টার্স-ইপসোসের এই জরিপে অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৭৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।

















