নানা অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় জর্জরিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং দুই স্বতন্ত্র পরিচালক একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগ করা কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক এমডি মুখতার হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির এমডি ওয়ালি উল্লাহ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নিয়ামুল কবির এবং স্বতন্ত্র পরিচালক রফিকুল ইসলাম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং উত্তরা গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মাহবুব আলমকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের এই পর্ষদ গঠন করেছিল। এই চারজনের পদত্যাগের ফলে বর্তমানে পর্ষদে কেবল দুইজন প্রতিনিধি—মোহাম্মদ শফিউল আজম ও মাহবুব আলম—অবশিষ্ট রইলেন।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অংশ এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বিশেষ একটি পক্ষের অনৈতিক চাপের কারণেই তারা দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হয়ে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, আমানতকারীদের অর্থ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ বিতরণ এবং কলমানির অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি উদঘাটিত হওয়ার পর ২০২২ সালে উত্তরা ফাইন্যান্সের তৎকালীন পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সময় উত্তরা গ্রুপের পাঁচ প্রভাবশালী পরিচালক ও তৎকালীন এমডি এসএম শামসুল আরেফিনকে অপসারণ করা হয়। এরপর পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এর ভবিষ্যৎ আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

















