রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকা সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির কবলে পড়ে। মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই এলাকাটির বিভিন্ন সড়ক হাঁটু পরিমাণ পানির নিচে তলিয়ে যায়। বৃষ্টি কিছুটা কমে এলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ পথচারী, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহনের ভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, ঢাকা কলেজের মূল ফটক, নায়েমের গলি থেকে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং নিউমার্কেটের দ্বিতীয় ফটক পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ পুরোপুরি পানির নিচে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা কলেজের মূল ফটক ও নায়েমের গলিতে পানি জমে থাকায় আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতে বড় ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। তাদের প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হওয়া বা হলে ফেরার সময় বাধ্য হয়েই পানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিউমার্কেটের ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও। পানি জমে থাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, যার ফলে বেচাকেনা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। নূরজাহান সুপার মার্কেটের দোকানদার আব্দুল গফুর জানান, তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন, কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই মার্কেটের সামনে পানি ওঠার এই পুরনো সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। পানি উঠলেই ক্রেতারা আসতে চান না, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মিজান জানান, বৃষ্টি হলেই কলেজ গেট থেকে শুরু করে নায়েমের গলি ও হলপাড়া এলাকা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রাস্তায় জমে থাকা পানির কারণে খাওয়া-দাওয়া ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি কমে এলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছিল।

















