পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট আবেদন খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আদালতের এই রায়ের ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে সরকারের রাজস্ব বাবদ প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর ট্যাক্স বিভাগ ৩০ দিনের সময় দিয়ে ডিমান্ড নোটিশ ইস্যু করবে। তবে গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর তারা আপিল করবেন।
এর আগে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের বকেয়া কর নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে রিটগুলো করেছিল। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট কর কমিশনারের আগের আদেশ বাতিল করে শর্তসাপেক্ষে আপিলের সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর আপিল বিভাগে গেলে, আপিল বিভাগ বিষয়টি পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন।
পুনঃশুনানির ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিটগুলো খারিজ করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে ওই বেঞ্চের একজন বিচারক অতীতে সরকারি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে সংশ্লিষ্ট থাকায় রায়টি ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনায় তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠান, যেখানে আজ চূড়ান্তভাবে রিট দুটি খারিজ হলো। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন।
পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬০০ কোটির বেশি টাকা প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করা হবে।.পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে।

















