রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় অবৈধভাবে মজুদকৃত সার জব্দ এবং পরবর্তীতে ৩২৫ বস্তা সার গায়েব হওয়া সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা মিনি হল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নূর তানজু এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা লিখিত বক্তব্যে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জানান, ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল গ্রামের মোঃ সাইফুল ইসলাম (পিতা: ফছির উদ্দিন)-এর বাড়িতে একটি যৌথ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী, কিসমত গণকৈড় ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অভিযুক্তের মেয়ে নিশি খাতুন উপস্থিত ছিলেন। সকলের উপস্থিতিতে সাইফুলের বাড়ির বারান্দা ও সংলগ্ন কক্ষ থেকে অবৈধভাবে সংরক্ষিত মোট ৬৭০ বস্তা সার গণনা করে জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ডিএপি সার ছিল ৩২৪ বস্তা, ইউরিয়া সার ২৪৬ বস্তা এবং টিএসপি সার ১০০ বস্তা।
একই দিনে পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একই ব্যক্তি সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন কাত্তিকপাড়া বাজারস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘নিশি কীটনাশক বিপনী’-তে অভিযান চালিয়ে আরও ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, একই দিনে একই মালিকের সার দুর্গাপুর ও পুঠিয়া—এই দুটি ভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু ‘দৈনিক যুগান্তর’ সহ কিছু অনলাইন ও ছাপা পত্রিকা রহস্যজনকভাবে ৩২৫ বস্তা সার গায়েবের মনগড়া ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে, যেখানে পুঠিয়ার জব্দকৃত সারের তথ্য এড়িয়ে কেবল দুর্গাপুর উপজেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির কথিত কথোপকথনের বিষয়টিও সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করা হয়। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথভাবে জানান, স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতেই সঠিক নিয়মে সারের বস্তা গণনা ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই এই ধরণের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

















