জঙ্গলের মাঝখানে মণি ও বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি ছোট্ট ঘরে বাস করতেন এক হতদরিদ্র কাঠুরিয়া ও তার স্ত্রী। তাদের দারিদ্র্য এতটাই চরমে ছিল যে, গাছ কাটার জন্য একটি কুড়াল কেনার সামর্থ্যও তাদের ছিল না। রুটি-রুজির জন্য কাঠুরিয়া গাছ থেকে হাত দিয়ে ডালপালা ভেঙে হিমছড়া বাজারে বিক্রি করতেন। সেই সামান্য আয়েই কোনোমতে তাদের দিন চলতো।
এভাবে বেশ কিছু বছর কেটে যাওয়ার পর কাঠুরিয়া লক্ষ্য করলেন, হাতের নাগালে থাকা শুকনো ডালপালা দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। গাছগুলো অনেক উঁচু হয়ে যাওয়ায় সেগুলো সংগ্রহ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। জমানো অর্থও শেষ হয়ে আসায় তিনি গভীর হতাশায় ডুবে যান। একদিন শেষ বিকেলে নদীর ধারে গোসল করতে গিয়ে তিনি ভবিষ্যতের চিন্তায় মগ্ন হয়ে বসেছিলেন। সেই দিনই তার হাতে আসে এক অদ্ভুত কুড়াল।
কুড়ালটি পেয়ে তার স্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি আশা প্রকাশ করলেন যে, এখন থেকে এই কুড়াল দিয়ে বেশি বেশি কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করে তাদের অভাব দূর হবে এবং তারা সুখে থাকতে পারবেন। পরদিন কাঠুরিয়া সেই কুড়াল নিয়ে জঙ্গলে গেলেন, কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলেন কোনো গাছই শুকনো নয়, বরং সব গাছই কাঁচা। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর হতাশ হয়ে তিনি একটি গাছের গোড়ায় কুড়াল দিয়ে কোপ দিয়ে বসে রইলেন।
নিজের ঘাম মুছতে গিয়ে তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, কুড়ালের আঘাতে সেই গাছটি মুহূর্তের মধ্যে শুকিয়ে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি আরেকটি গাছে কোপ মারলেন এবং সেটিও সাথে সাথে শুকিয়ে গেল। এই জাদুকরী কুড়ালের কেরামতি দেখে কাঠুরিয়া ও তার স্ত্রী অত্যন্ত খুশি হলেন। এরপর থেকে ওই কুড়ালের সাহায্যেই তিনি গাছ থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন। এভাবে কয়েক বছরের ব্যবধানে তাদের অভাব দূর হয়ে তারা স্বচ্ছল ও ধনী হয়ে ওঠেন।

















