আইন সংশোধনের পর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্দলীয় প্রতীকে। পূর্বে ইউপি চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও, সংশোধিত বিধিমালা থেকে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য নির্দিষ্ট প্রতীক সংরক্ষণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদের প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস। সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার প্রতীক রাখা হয়েছে। সাধারণ সদস্যদের জন্য উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও সংশোধিত বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বিধি ভঙ্গ করলে কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এছাড়াও, কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিল করে পুনঃভোটের ব্যবস্থা নিতে পারবে। নির্বাচনী কাজে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দেওয়া হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে জামানতের পরিমাণ পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে জামানত ফেরত পাওয়ার শর্তও কঠোর করা হয়েছে। এখন কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, যেখানে পূর্বে এক-অষ্টমাংশ ভোট পেলেই জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল।
নির্বাচন কমিশন গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। পূর্বে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়সীমা ছিল ৫ লাখ টাকা, যা এখন বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমা আগের মতোই ২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

















