বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ ছাড়া জোটের অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগের দিন, অর্থাৎ ১২ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসবেন।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে না যাওয়ার বিষয়ে সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেননি। ভারত বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা বিমসটেকের সদস্যদেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। জোটের সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে না যাওয়ার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ৪ অক্টোবর বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো চিঠিতে ১২ ও ১৩ অক্টোবরের বৈঠকের জন্য চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়, যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ছিল না। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
বিমসটেক সচিবালয় ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রমতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগের দিন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক পরিচালনা করবেন। বৈঠকে ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুংতেন দর্জি, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল কো কো ও, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দনা আবেরত্নে এবং থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসাক থংস্রির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দিল্লির বৈঠকে এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মানব পাচার, মাদক পাচার, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের পাশাপাশি সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক যৌথ কার্যকরী দলের একাদশ বৈঠকের প্রতিবেদন ও সুপারিশও এবারের আলোচনায় স্থান পাবে।
বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল আট বছর আগে। ২০১৮ সালের ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত জোটের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। ওই সম্মেলনে কাঠমান্ডু ঘোষণায় সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদার করার অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এরপর এত দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে বিমসটেকের ২০তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের ধারণাপত্র অনুমোদন করা হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর দিল্লিতে প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

















