নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর নিয়ামতপুর জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, আবেদন নিষ্পত্তিতে গড়িমসি এবং বিভিন্ন সেবা বাবদ অর্থ দাবির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। নতুন মিটারের আবেদন, বিদ্যুতের লোড বৃদ্ধি ও মিটার স্থানান্তরসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে স্থানীয় গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডে অফিসটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মেসবাহুল হক ও ওয়ারিং ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, অনলাইনে নতুন মিটারের আবেদন করলে নানা ত্রুটির অজুহাতে তা বাতিল করে দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত আবেদন সম্পন্ন হয় বলে দাবি তাদের। এ ছাড়া ভবনে একাধিক মিটার অনুমোদনসহ ছোটখাটো ত্রুটির কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা এসব অনিয়মের স্বাধীন তদন্ত ও দাপ্তরিক নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
পাঁড়ইল ইউনিয়নের ধানসা মসজিদ কমিটির পক্ষে আমানউল্লাহ জানান, মসজিদে এসি স্থাপনের জন্য বিদ্যুতের লোড বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছিল প্রায় তিন মাস আগে। একবার পরিদর্শন করা হলেও এখনো কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তিনি ডিজিএম মেসবাহুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে ওয়ারিং ইন্সপেক্টরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কাওসার নামে আরেক গ্রাহক জানান, নির্মাণাধীন ভবনের মিটার স্থানান্তরের আবেদন করলে ওয়ারিং ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সমস্যার সমাধান হয়নি এবং বর্তমানে আবাসিক হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও তাকে বাণিজ্যিক হারে বিল গুনতে হচ্ছে। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এসব বিষয়ে এজিএম (কম) মহাই মিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না এবং অভিযোগ পেলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও অর্থ দাবির মতো বিষয় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হয়রানিমুক্ত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

















