বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। মঙ্গলবার বাসস কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে, যেখানে বাসসের ৩৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। প্রশিক্ষণে বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফজলুল হক, চিফ রিপোর্টার (ইংরেজি) জি এম রাজিব হোসেন, চিফ রিপোর্টার (বাংলা) মো. দিদারুল আলম এবং পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন উপস্থিত ছিলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, বরং সমাজের প্রতি একটি বড় দায়িত্ব। জনমত গঠন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতাবানদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি পেশাগত আচরণবিধি, নৈতিকতা ও আইন মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদ প্রকাশের সময় ব্যক্তির গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদাকে সম্মান করতে হবে। ভুল তথ্য পরিবেশিত হলে দ্রুত তা সংশোধন বা ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। এছাড়া হিংসা, সহিংসতা ও ধর্মান্ধতা উসকে দিতে পারে এমন বিষয় প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
মোবাইল সাংবাদিকতাকে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ হিসেবে অভিহিত করে বাসসের প্রধান সম্পাদক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রচারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসি ব্যবহার করে একজন সাংবাদিক নিজেই ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, ভয়েস রেকর্ডিং ও সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সংবাদের শুধু উপরিভাগ নয়, বরং ঘটনার ভেতরের মানবিক দিক ও প্রাণ খুঁজে বের করা একজন সাংবাদিকের কাজ। বর্তমান তথ্যযুদ্ধের যুগে গুজব ও অপপ্রচার শনাক্তকরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, অজ্ঞতাবশত ছড়ানো তথ্য দেশের স্বার্থ, সমাজ ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সাংবাদিকের বিবেক ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তথ্য যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

















