বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাসিন্দা মিরাজ শেখকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে তাকে আদালতে হাজির না করার প্রেক্ষিতে দায়ের করা একটি হেবিয়াস করপাস রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
মিরাজ শেখের পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ই এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোংলা উপজেলার জয়মনি ঠোঁটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদা পোশাকধারী দুই ব্যক্তি তাকে আটক করেন। ওই ব্যক্তিরা নিজেদের কোস্টগার্ড সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে তাকে হাড়বাড়িয়া কোস্টগার্ড স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মোংলার দিক থেকে আসা ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড’ লেখা একটি স্পিডবোটে থাকা ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যদের উপস্থিতিতে মিরাজকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার সময় মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খাতুনসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, ঘটনার চার দিন আগে অর্থাৎ ৬ই এপ্রিল মিরাজ স্থানীয় দুই সহযোগীকে নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ১০ই এপ্রিল বাড়িতে ফেরার পর সন্ধ্যায় একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পেয়ে বের হওয়ার পরপরই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনায় ২৩শে এপ্রিল মিরাজের স্ত্রী মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ৮ই মে মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এবং ১৪ই মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক ও আইজিপিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে পরিবারটি হাইকোর্টে রিট দায়ের করে।
অন্যদিকে, কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মিরাজ শেখকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। পরিবারের তোলা অভিযোগের সত্যতাও তারা খুঁজে পাননি বলে পূর্বে জানিয়েছিলেন। তবে রিটের শুনানি শেষে আদালত কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

















