নেত্রকোনার মদনে মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নিম্নমানের কাজ, ভেজা বালু ব্যবহার এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে অন্ধকারে রেখে কাজ শেষ করার প্রতিবাদে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মগড়া নদীর ভাঙনে বিদ্যালয়টি মারাত্মক হুমকির মুখে ছিল এবং ইতোমধ্যে একটি শ্রেণিকক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরুর পর থেকেই কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর বিষয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের অবহিত করা হয়নি। তদারকির অভাবে ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ও ভেজা বালু ব্যবহার করছেন, যা প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে।
এর আগে স্থানীয় বাসিন্দা হুসাইন কবির পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমানের যোগসাজশে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, অদৃশ্য কারণে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
মানববন্ধনে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী আক্তার, অভিযোগকারী হুসাইন কবির, স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম আকন্দ, জাকির হোসাইন রুবেল, মনু মিয়া, চান মিয়া ও সায়েম মিয়াসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। সায়েম মিয়া বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাজ পরিদর্শন করেছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আশরাফুল ইসলাম আকন্দ বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষার খবরে খুশি হলেও কাজের যে মান, তাতে এক বর্ষাও টিকবে না।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী আক্তার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার শুরু থেকেই এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে চোর-পুলিশ খেলা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















