ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জাকাত পাওয়ার হকদারদের মধ্যে গরিব ও অভাবী আত্মীয়-স্বজন অন্যতম। নিজের ভাই-বোন যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, তবে তাদের জাকাত দেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এতে জাকাত আদায়ের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার কারণে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়।
তবে এক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো, ভাই-বোনকে অবশ্যই প্রকৃত অভাবগ্রস্ত হতে হবে। এছাড়া তারা যেন আপনার প্রত্যক্ষ বা আইনগত ভরণপোষণের দায়িত্বে না থাকেন। কারণ, যাদের ভরণপোষণ করা আপনার ওপর শরিয়তসম্মতভাবে ফরজ—যেমন স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, দাদা-দাদি বা নাতি-নাতনি—তাদের জাকাতের টাকা দেওয়া যায় না। তাদের মৌলিক প্রয়োজন মেটানো আপনার নিয়মিত দায়িত্বের অংশ।
পবিত্র কোরআনের সুরা আত-তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত ব্যয়ের আটটি খাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘ফকির’ ও ‘মিসকিন’ হিসেবে সমাজের অন্যান্য গরিব মানুষের পাশাপাশি রক্তসম্পর্কের দরিদ্র ভাই-বোন ও নিকটাত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালার এই বিধান অনুযায়ী, নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিশেষ তাগিদ রয়েছে।
নবী করিম (সা.) হাদিসে নিকটাত্মীয়দের জাকাত বা সদকা দেওয়ার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সুনান আত-তিরমিজি (৬৫৮) ও সুনান আন-নাসায়ী (২৫৮১) হাদিসে উল্লেখ আছে, সাধারণ গরিবকে সদকা দিলে একটি সওয়াব হয়, আর আত্মীয়কে দিলে দুটি—একটি সদকার এবং অন্যটি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার।
অনেক ফকিহ ও আলেমের মতে, ভাই-বোন যদি আপনার সরাসরি পোষ্য না হন এবং আলাদা পরিবার বা স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করেন, তবে তাদের জাকাত দেওয়া পুরোপুরি জায়েজ। এমনকি তারা যদি প্রকৃত অর্থেই জাকাতের উপযুক্ত হন, তবে অন্য গরিবকে না দিয়ে তাদের দেওয়াকে অনেক আলেম বেশি উত্তম বলে গণ্য করেন।

















