বরগুনায় মো. খলিলুর রহমান (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তালাক দেওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে সাবেক স্ত্রীকে স্ত্রী পরিচয়ে রেখে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। একই মামলায় ওই ব্যক্তির বাবা মো. ইউসুফ হাওলাদার এবং মা মোসা. ভানু বেগমকেও (৪৮) আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তালাকের বিষয়টি খলিলুর রহমানের বাবা-মাও জানতেন এবং তাঁরা বিষয়টি গোপন রেখে ছেলেকে সহযোগিতা করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। আদালতের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি এই আদেশ দেন।
মামলার এজাহার ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল খলিলুর রহমানের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাঁদের তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে, মরিয়ম, রয়েছে। বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে খলিলুর রহমান তাঁকে বিভিন্ন সময় মারধর করতেন। এই কারণে গত ২৪ জানুয়ারি নির্যাতনের অভিযোগে তিনি ২৯ জানুয়ারি বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। পরে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত মামলাটি বিচারের জন্য বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠান।
বাদীর ভাষ্যমতে, চলতি বছরের ১৩ জুলাই ওই আদালতে হাজির হয়ে খলিলুর রহমান একটি তালাকনামা দাখিল করেন, যেখানে দেখা যায় তাঁকে ১৬ জানুয়ারি তালাক দেওয়া হয়েছে। তবে তালাকের বিষয়টি তাঁকে আগে জানানো হয়নি। বাদীর দাবি, তিনি ১৬ জানুয়ারি তালাকের তারিখের পরও ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বামীর বাড়িতেই ছিলেন এবং এ সময় তাঁর কাছে তালাকের কোনো তথ্য ছিল না।
মামলার অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন যে, ১৬ জানুয়ারি তালাক দেওয়ার পরও খলিলুর রহমান বিষয়টি তাঁর কাছে গোপন রাখেন। তিনি স্বামী হিসেবে খলিলুর রহমানকে বিশ্বাস করে ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে খলিলুর রহমান একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। খলিলুর রহমান জানতেন যে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটেছে, তারপরও বিষয়টি গোপন করে তাঁকে স্ত্রী হিসেবে বিশ্বাস করিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নয় দিন তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করেন। এ সময় খলিলুর রহমানের বাবা-মাও সেখানে ছিলেন। তাঁরা তালাকের বিষয়টি জানতেন এবং তা গোপন রেখে খলিলুর রহমানকে সহযোগিতা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. খলিলুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বরগুনার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রনজুয়ারা সিপু বলেন, তালাক দেওয়ার আইনগত অধিকার স্বামীর রয়েছে। তবে তালাক দেওয়ার পর তা গোপন রেখে সাবেক স্ত্রীকে স্ত্রীর পরিচয়ে রেখে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ গুরুতর। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসবে।
মামলাটি এখন পিবিআইয়ের তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।

















