সুরা কুরাইশ এমন একটি সুরা যা তার চিরন্তন আহ্বান ও গভীর আধ্যাত্মিক প্রভাবের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে। এই সুরার আয়াতগুলোতে আল্লাহ কুরাইশদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের কথা উল্লেখ করে তাদের ক্ষুধার পর আহার এবং ভয়ের পর নিরাপত্তা প্রদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বস্তুত, অন্ন ও নিরাপত্তা হলো সম্মানজনক জীবনের প্রধান দুটি স্তম্ভ। এই তিন নেয়ামত একসঙ্গে মিললে মানুষ অভিযোগহীন হয়ে যায়। অন্যের হাতে যা আছে তার দিকে আর তাকায় না- এক. হৃদয়কে শান্ত রাখার মতো নিরাপত্তা। দুই. জীবনযাপনে সহায়তা করার মতো সুস্থতা। তিন. প্রয়োজন মেটানোর মতো খাদ্য। তাই আল্লাহতাআলা বলেন, ‘অতএব, তারা ইবাদত করুক এই গৃহের মালিকের, যিনি এদের ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন ও ভীতি হতে এদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছেন’ (সুরা কুরাইশ: ৩-৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে নিরাপদ, সুস্থ এবং যার কাছে দিনের খাবার আছে, সে যেন পুরো দুনিয়া পেয়ে গেছে (তিরমিজি: ২৩৪৬, হাদিস নং ১)।
নিরাপত্তা এমন এক অমূল্য নেয়ামত, যার অভাব জীবনকে দুঃস্বপ্নময় করে তোলে। প্রকৃত কৃতজ্ঞতা হলো নেয়ামতের সঠিক ব্যবহার করা, আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা এবং যারা এই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত তাদের কষ্ট অনুভব করা। আজকের পৃথিবীতে ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের পরিস্থিতি ঠিক তেমনি এক চরম সংকটের মুখে। সেখানে খাদ্যের তীব্র সংকট এবং নিরাপত্তার অনুপস্থিতিতে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এই দুঃসময়ে ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এগিয়ে আসা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। এটাই সেই মুহূর্ত যখন সততা পরীক্ষা হয়, নিয়ত যাচাই হয়। তাই আমাদেরও উচিত এতে অংশ নেওয়া। আর এও গোপন নয় যে, এই বরকতময় আরব দেশের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের প্রভাবশালী উপস্থিতি ও সমর্থনের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা ও সম্মানজনক অবস্থান নিয়েছে (তথ্যসূত্র: ১৮৬)। সরকারি অনুমোদিত ও বিশ্বস্ত মাধ্যমের সহায়তায় খাবার, ওষুধ ও পানি পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্মেলনগুলোতে ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
দোয়ার দরজা কখনো বন্ধ হয় না এবং আন্তরিক নিয়ত এমন এক কাজ যা বৃথা যায় না। সুন্দর কথা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। আর গাজা ও ফিলিস্তিনের মানুষের অবস্থা মনে করিয়ে দেওয়া অন্তরকে জাগ্রত করে। প্রত্যেকেরই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী করণীয় আছে। যে অনুভূতি জাগ্রত করল, সে অংশ নিল; যে হৃদয় দিয়ে দোয়া করল, সে সহায়তা করল; যে স্মরণ করাল, সে পথ দেখাল। হে আল্লাহ, ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের তুমি সাহায্য করো, তাদের ক্ষুধা দূর করো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো। যারা অসহায়, তাদের ভরসা তুমিই। তুমি তাদের ভাঙা মন জোড়া লাগিয়ে দাও এবং তাদের সুস্থতা ও প্রশান্তির চাদরে আবৃত করো। তাদের বিপদ থেকে মুক্তি দিয়ে তোমার রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দাও।

















