খাগড়াছড়িতে আকস্মিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি সদরের মুসলিমপাড়া, কালাডেবা, গঞ্জপাড়া, ফুটবিল ও খবং পড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, হঠাৎ পানি আসায় তারা কিছুই সরিয়ে নিতে পারেননি; অনেকের ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়া ফসলি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
একই সময়ে দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০০ পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বৃষ্টিপাতের ফলে দীঘিনালা-মাইনি ও দীঘিনালা-কবাখালী সড়কসহ জামতলী, নীলমঞ্চল ও হিন্দুপাড়া এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দীঘিনালা চৌমুহনী স্টিল ব্রিজের দুই পাশের সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দীঘিনালা-মাইনি ও দীঘিনালা-লংগদু সড়কের ওপর দিয়ে পানি বয়ে গেলেও যান চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দীঘিনালায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত নয় বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা তারা আগে দেখেননি। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনো খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের দ্রুত সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।

















