গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদে রাতের আঁধারে লাগানো কিছু পোস্টারকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও গাজীপুর বাজারের বিভিন্ন দেয়ালে লাগানো ওই পোস্টারগুলোতে বর্তমান প্রশাসক মো. মাহাবুব আলম এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কামরুন্নাহার চন্দনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পোস্টারগুলোতে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ তোলা হয়েছে, যার মধ্যে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ ও ‘ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব’ অন্যতম। তবে এসব অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা তথ্য পোস্টারে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রতন জানান, সকালে বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালে পোস্টারগুলো নজরে আসার পর থেকেই এলাকায় আলোচনার ঝড় ওঠে। কে বা কারা এই পোস্টার ছাপিয়েছে এবং রাতের অন্ধকারে এগুলো লাগিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা অনুমান ও ব্যক্তিগত বিরোধের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
অভিযুক্ত নারী সদস্য কামরুন্নাহার চন্দনা এই পোস্টারগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, প্রশাসকের সঙ্গে তার কেবল প্রশাসনিক যোগাযোগ ছিল, এর বাইরে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। একটি বরাদ্দের কাজকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
প্রশাসক মো. মাহাবুব আলমও এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নারী সদস্যের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমজাত মেম্বারের সঙ্গে একটি বিষয়ে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। ওই ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে কেউ এই অপপ্রচার চালাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। পোস্টারগুলো কারা ছাপাল, ছবিগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হলো এবং এর পেছনে কোনো স্থানীয় বিরোধ বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে কি না, তা বের করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইউনিয়ন পরিষদ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, তাই এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর মিথ্যা হলে তা পরিকল্পিত মানহানির অংশ হিসেবে বিবেচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

















