হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের সঙ্গে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের সম্পর্ক ছিল গভীর এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং গিন্সবার্গের মৃত্যুর কয়েক বছর আগে তারা বেশ কাছাকাছি এসেছিলেন। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ক্রাসনাহোরকাইকে শুধু আশ্রয়ই দেননি গিন্সবার্গ, বরং তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়ার এন্ড ওয়ার’ লেখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন এই কবি।
গিন্সবার্গের জীবন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। তার নিউইয়র্কের বাসভবনটি ছিল ছোট, যেখানে একটি রান্নাঘর ও অদ্ভুত সবুজ রঙের আলমারি ছিল। এই আলমারিটি তিনি পোলিশদের এক পুরোনো জিনিসের বাজার থেকে কিনেছিলেন বলে ক্রাসনাহোরকাই স্মরণ করেন। গিন্সবার্গের বাড়িটি ছিল বিট প্রজন্মের কবি-শিল্পী ও সাংস্কৃতিক জগতের মানুষের আনাগোনার কেন্দ্র। তার দরজা সব সময় সবার জন্য খোলা থাকত এবং তিনি মানুষকে আপন করে নিতে জানতেন।
উপন্যাস ‘ওয়ার এন্ড ওয়ার’ লেখার সময় ক্রাসনাহোরকাই যখন নিউইয়র্কের ব্যস্ত পরিবেশে এর নিরপেক্ষ পটভূমি তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন গিন্সবার্গ তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। গিন্সবার্গের পরামর্শ ছিল, পুরো শহর বা পটভূমি নিয়ে চিন্তা না করে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিতে, যা ক্রাসনাহোরকাইয়ের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ছিল। তাদের আলোচনার পরিধি শুধু সাহিত্য নয়, বরং অনুভূতি প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো গভীর বিষয়েও বিস্তৃত ছিল।
গিন্সবার্গের জীবনের শেষ সময়ের একটি বিশেষ স্মৃতি শেয়ার করেছেন ক্রাসনাহোরকাই। একবার ডেভিড বর্ন একটি ভারতীয় সংগীতদলকে গিন্সবার্গের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। সেখানে তারা সবাই মিলে সংগীতচর্চা করেন। গিন্সবার্গ হারমোনিয়াম বাজান এবং গান করেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার আগে গিন্সবার্গ টেবিলের নিচে রাখা টেপ রেকর্ডারে রেকর্ড করা সেই পুরো কথোপকথনের ক্যাসেটটি তাদের উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। ক্রাসনাহোরকাইয়ের মতে, গিন্সবার্গ ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি নিজের জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত মানুষকে পরামর্শ ও স্মৃতি উপহার দিয়ে গেছেন। তার ঘর ছোট হলেও হৃদয়ের প্রশস্ততা ছিল অসীম।

















