বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের আজ জন্মদিন। শৈশব থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা সাবিনা মায়ের কাছেই সংগীতে হাতেখড়ি নেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে ‘অল পাকিস্তান স্কুল মিউজিক কম্পিটিশনে’ প্রথম পুরস্কার জিতে তিনি প্রতিভার জানান দেন। পরবর্তীতে শিশু শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দেন তিনি।
১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানটির মাধ্যমে প্লেব্যাক সংগীত জগতে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্রের গানে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। কবরী, ববিতা, শাবানার মতো কিংবদন্তি অভিনেত্রীদের ঠোঁটে তার গাওয়া গানগুলো দর্শক-শ্রোতাদের মন জয় করেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।
শুধু চলচ্চিত্রের গানেই নয়, সাবিনা ইয়াসমিন আধুনিক, দেশাত্মবোধক, পল্লীগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত এবং গজলসহ বিভিন্ন ধারার গানেও সমান পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তার দীর্ঘ সংগীতজীবনে হাজার হাজার গান রেকর্ড হয়েছে, যা বাংলা সংগীতের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
সংগীতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবিনা ইয়াসমিন একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন। এছাড়াও তিনি একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সময়ের সাথে সাথে সংগীতের ধারা ও প্রযুক্তি পরিবর্তিত হলেও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের আবেদন এতটুকুও কমেনি। ৭২ বছর পেরিয়ে ৭৩ বছরে পদার্পণ করা এই কিংবদন্তি শিল্পী বাংলা সংগীতে আজও এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছেন, এবং তার গান আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।

















