ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় রাজ ক্লাসিক বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কার এবং সহকারী মাহবুব আলম মনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া একই বাসের চালক সোহেল রানার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার আসামি সোহেল রানার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন এবং অপর দুই আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আসামি সাজুর এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দীক আজাদ আসামি মনিরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই দিনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম চালক সোহেল রানার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা এবং কিছু খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে ওই বাসে ওঠেন। তার আসার খবর পেয়ে ছেলে মো. হাসান গাজীপুর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। বাবার মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়ার পর সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তিনি বাসায় ফিরে যান।
দুপুর ১২টার দিকে বনানী থানা থেকে প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়। পরে মরদেহের ছবি দেখে ছেলে হাসান বাবাকে শনাক্ত করেন। বনানী থানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী রাস্তার ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল এবং নাক, মাথা ও ডান হাতের কব্জি সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। ঘটনার দিনই হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে নিহতের কাছে থাকা ৫ লাখ টাকা এবং সঙ্গে থাকা মালামাল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

















