যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার মাঠ থেকে নেপালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল—রোনান সুলিভান ও ডেক্লান সুলিভানের এই যাত্রা যেন সিনেমার গল্পের মতো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পেছনে এই যমজ ভাইয়ের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা দলে নিজেদের অন্তর্ভুক্তি, সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশকে ঘিরে তাদের সুদূরপ্রসারী স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠলেও মায়ের সূত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী এই দুই ভাইয়ের জন্য জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। ৩০ জনের বেশি খেলোয়াড়ের ট্রায়াল ক্যাম্পের কঠিন লড়াই পার করে তবেই তারা দলে সুযোগ পান। শুরুর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে রোনান সুলিভান বলেন, প্রবাসী হওয়ার কারণে ভাষা না বোঝা এবং সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল। তবে অনুশীলনে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের পর সেই পরিবেশ দ্রুতই সহজ হয়ে যায়।
সাফ ফাইনালে টাইব্রেকারের চরম উত্তেজনার মুহূর্তে রোনান সুলিভান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় প্যানেনকা চিপ করে গোল নিশ্চিত করেন। ভাইয়ের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে ডেক্লান সুলিভান জানান, রোনান যে এমন সাহসী শটই নেবে, তা তিনি আগে থেকেই জানতেন। সুলিভান পরিবারে ফুটবল চর্চা দীর্ঘদিনের; তাদের অন্য দুই ভাইও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার এবং ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও তারা মাতামহের দেশ বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছেন।
শিরোপা জয়ের পর ঢাকায় ফিরে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তাতে তারা অভিভূত। ডেক্লান সুলিভান জানান, ঢাকার মানুষের ভালোবাসা দেখে তারা বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলে পুরো দেশ আনন্দে ভাসবে। সাফ অনূর্ধ্ব-২০-এর এই সাফল্যকে তারা বাংলাদেশের ফুটবলের পুনর্জাগরণের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন। কোটি কোটি দর্শকের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে জাতীয় দলকে আরও বড় কোনো মঞ্চে নিয়ে যাওয়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

















